উম্মতের ফিকির ১২

“আপনাকে কি করে ভাল না বেসে থাকতে পারি ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)!!
মহানবী (সা) উনার এন্তাকালের সময় রাসূল (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে? আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে ? জিবরাঈল (আঃ) বললেন, হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে।
মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে। মালাকুল মউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রাইলকে রাসূল বললেন ঘোঙানির সাথে, ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনাদায়ক জান কবজ করা। ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ) তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন, জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন, আমার প্রতি তুমি বিরক্ত? জিবরাঈল বললেন, হে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাকারাতুল মউতের অবস্থায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি!
ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল (স) ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহ সাকারাতুল মউতটা (জান কবজের সময়) যতই ভয়াবহ হোক, সমস্যা নেই, আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা। রাসূলের শরীরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর। রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো, তিনি কিছু বলবেন মনে হয়।
হযরত আলী (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো। রাসূল বললেন, নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নিও।
রাসূল (স) এর ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ, সাহাবীরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত। হযরত আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো, রাসূল (স) চোখ ভেজা অবস্থায় বলতে থাকলেন, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, “হে আমার উম্মতেরা নামাজ, নামাজ..! নামাজ…
খেয়াল করুন যেই প্রিয় নবী জীবনের শেষ পর্যায়ের সময়ও উম্মাহ কে নিয়ে ফিকির করলেন যার শেষ চাওয়ায় ছিলো উম্মাতের নাজাতের পথ শেষ উম্মাহ কেন আজ এতো বিভক্ত বিক্ষিপ্ত, কেন নিজেদের মধ্যে এতো রেশারেশী মারামারি, নিজেদের ভিতরেই যুদ্ধ!! কোথায় আজ মুসলিম উম্মাহ, কোথায় আজ আমাদের অবস্থা, আসলেই কি আমরা রাসূল (সাঃ) কে ভালোবাসি না এটা শুধুই শব্দচয়ন!যদি তা-ই হয় তাহলে কেন আজ আমাদের এই করুণ দশা! এটাই কি চেয়েছিলেন রাসূল (সা:)! আজ আমাদের কোনো ফিকির নেয় আমাদের মুসলিম উম্মাহ নিয়ে, আমরা আজ ভুলতে বসেছি এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই ভাই।”

অপেক্ষা করুন

0